প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫১:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদী প্রতিনিধি:
লটকনের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত নরসিংদীতে এবার মৌসুমি ফল লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর লাল মাটি এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় কারিগরি সহায়তায় জেলার বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে দাম কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে ‘বুগি’ নামে পরিচিত এ ফলটি ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। একসময় অবহেলিত বনজ ফল হিসেবে পরিচিত লটকন এখন জেলার হাজারো কৃষক পরিবারের প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত তরুণও বাণিজ্যিকভাবে লটকনের বাগান গড়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নরসিংদীতে প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। জেলার লাল মাটিতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় এখানকার লটকনের উৎপাদন ও স্বাদ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উন্নত। এ বছর ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি লটকন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা।
তবে বাম্পার ফলনের আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে বাজারদর কমে যাওয়ায়। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি লটকনের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও প্রত্যাশিত লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লটকন চাষি করিম চৌধুরী বলেন, তিনি নিজেই পাইকারি বাজারে লটকন বিক্রি করেন। এতে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমির বাগান থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। তবে তিনি জানান, ‘বল্লা পোকা’ লটকনের অন্যতম প্রধান শত্রু। সময়মতো কীটনাশকযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করলে এ পোকার আক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পাইকারি ব্যবসায়ী হিমেল জানান, মৌসুমের শুরুতেই তিনি সাতটি বাগান কিনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, নরসিংদীর মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, লটকন চাষকে আরও লাভজনক করতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।












Design & Developed by BD IT HOST