সারাদেশ

পটুয়াখালীতে অটোরিকশাচালক জাকারিয়া হত্যা ও ছিনতাই মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

  প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:৪৩:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীতে অটোরিকশাচালক জাকারিয়া হত্যা ও ছিনতাই মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর সদর থানাধীন চর জৈনকাঠী এলাকায় চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক মো. জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. সাইফুল ইসলাম (২৯) ও মোতাহের/মামুন হাওলাদারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সকালে পটুয়াখালী সদর থানাধীন চর জৈনকাঠী শৌলা খেয়াঘাটসংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ, ডিবি, নৌ পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের একটি চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিকটিম জাকারিয়া শরীফকে ক্যাবল বা চিকন রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. রুহুল আমিন শরীফ বাদী হয়ে পটুয়াখালী থানায় একটি হত্যা ও ছিনতাই মামলা (নম্বর-২৯, তারিখ: ১০-০৯-২০২৬ খ্রিঃ) দায়ের করেন।

মামলার পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম আধুনিক প্রযুক্তি ও শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং আসামিদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে পটুয়াখালী ও গাজীপুর জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. মামুন হাওলাদারকে এবং চোরাই ব্যাটারি ক্রেতা মো. শুক্কুর আকনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মহিপুর থানা এলাকা থেকে ভিকটিমের অটোরিকশার তিনটি চোরাই ব্যাটারি উদ্ধার করা হয় এবং বিসিক শিল্প এলাকা থেকে অটোরিকশার বডিও উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ ও লেনদেনের জের ধরে মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. মামুন হাওলাদার মিলে জাকারিয়াকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে অটোরিকশা ও ব্যাটারি ছিনতাই করে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST