বরিশাল

বাউফলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা, দিশেহারা চালকরা

  প্রতিনিধি ১৯ মার্চ ২০২৬ , ৫:২৬:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নিয়ে চরম হাহাকার শুরু হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যার কাছ থেকে যেভাবে পারছে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্টেশনে কিছু কিছু দোকানে জ্বালানি তেল মজুত থাকলেও প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে তেল নেই। তবে পর্দার আড়ালে চিত্র ভিন্ন। ক্রেতার অসহায়ত্ব বুঝে একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম দাম রাখা হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, কোনো দোকানে ১৪০ টাকা, কোথাও ১৫০ টাকা, আবার কোথাও ১৮০ টাকা পর্যন্ত লিটার প্রতি আদায় করা হচ্ছে। অর্থাৎ যার কাছ থেকে যত বেশি নেওয়া সম্ভব, সেই সুযোগই নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম না দিলে তেল মিলছে না। কয়েকজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, বাইক চালিয়ে সংসার চলে। কিন্তু এখন তেলের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। একই তেল একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। চড়া দাম দিলেই কেবল ভেতর থেকে বোতল বের করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের শক্ত নজরদারি না থাকায় এই নৈরাজ্য চলছে।
লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা ও ডিলারদের কারসাজি
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কোনো ধরনের অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র বোতলজাত করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা যে ডিলারদের কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করেন, তারাই তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ফলে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে খুচরা ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ের এই লুকোচুরি বাণিজ্যে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সুযোগ নেই। একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম দাম নেওয়ার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুতই বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগীরা অতি দ্রুত এই জ্বালানি নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST