ঢাকা

শিবালয়ে নৌপথে জলদস্যুর হামলা, চলে প্রকাশ্যে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি

  প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০২৫ , ৫:২৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পদ্মা যমুনা নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযান থেকে একটি চক্র ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করছে। চাঁদাবাজরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিদিন যমুনা নদীর একাধিক স্থানে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজি। চাঁদা না পেলে মারধর করছে। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন নৌযানের সুকানিরা।
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে চাঁদাবাজরা। অথচ থানা পুলিশ এবং নৌ-পুলিশের নাকের ডগায় প্রতিদিন নৌপথে ঘটছে ছিনতাই চাঁদাবাজি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পণ্য মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা এবং পদ্মা নদী দিয়ে সরবরাহ হয়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে সরকারি ইজারার বালুমহল থেকে বাল্কহেডযোগে নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি বেসরকারি মেঘা প্রকল্পে সরবরাহ করেন বালু ব্যবসায়ীরা।
প্রতিদিন শতাধিক বালুভর্তি বাল্কহেড আটকে জোরপূর্বক চাঁদা নিচ্ছে শিবালয় এবং দৌলতপুর উপজেলার চরের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রটি প্রতিদিন নৌপথে ৬ থেকে ৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করছে।
এরা শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া এবং দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি ইউনিয়নের বোডঘর এলাকা থেকে দৌলতপুর উপজেলার আমতলী খালের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করছে।
এদের একেকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১০-১২ জন সন্ত্রাসী বাহিনী থাকে। এরা বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র যেমন- হাঁসুয়া, রামদা লাঠিসোটা নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বাল্কহেড আটকে নগদ টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিচ্ছে।
এছাড়া চাঁদা দিতে দেরি হলে বাল্কহেডের সুকানিদের মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন করে ওই জলদস্যু বাহিনী। নৌপথে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির কাজে প্রায় ৫০ জলদস্যু বাহিনী জড়িত রয়েছে। এরা প্রত্যেকই মানিকগঞ্জের শিবালয় এবং দৌলতপুর উপজেলার চরের বাসিন্দা।
সরেজমিন দেখা যায়, শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীর বিভিন্ন জায়গায় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নিয়ে বিভিন্ন বাল্কহেড থেকে ছিনতাই চাঁদাবাজি করছে একদল জলদস্যু বাহিনী।
এদের রয়েছে ৬ থেকে ৮ ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এসব নৌকা নিয়ে তারা নৌপথে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ইঞ্জিনচালিত প্রতিটি নৌকায় ১০ থেকে ১২ জন করে জলদস্যু বাহিনী রয়েছে। প্রত্যেকের কাছে দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদী পথে চাঁদাবাজি করছে এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এদের কাজই সারা বছর মানুষের জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া। এদের অত্যাচারে আমরা চরের মানুষও আতঙ্কে থাকি সবসময়।
ভুক্তভোগী আজিজ পরিবহণের সুকানি হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমি সারাবছর এই নদীতে বাল্কহেড চালাই। গত মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ থেকে বালু ভর্তি বাল্কহেড নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হই।
আলোকদিয়া চরের বিদ্যুৎ পিলারের এখানে পৌঁছামাত্র ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে একদল জলদস্যু আমার বাল্বহেডের উপরে আসে। ওরা এসে আমার কাছে ৫০০ টাকা দাবি করে। তাদের ৫০০ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়, হেলপারকে মারধর করে। এরা অন্যান্য সময় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা নেয়।
বাল্কহেড রিসালাত পরিবহনের মাস্টার ইকবাল বলেন, আমরা যমুনা নদী দিয়ে ঢাকা বরিশাল পাটুরিয়া দৌলতদিয়াসহ সারা দেশে বালু সরবরাহ করি। আমাদের প্রায় ১২০ জন সুকানি প্রতিদিন পদ্মা যমুনা নৌপথে চলাচল করেন।
বেশ কয়েক দিন ধরে শিবালয় এবং দৌলতপুর উপজেলার বেশকিছু জায়গা থেকে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে মারধর করা হচ্ছে। আমাকেও মারধর করা হয়েছে। এরা সারা বছর নৌপথে চাঁদাবাজি করে। আমরা বর্তমানে নিজেদের জীবন হাতে রেখে নদীতে চলাচল করছি। এই জলদস্যু বাহিনী আমাদের নির্যাতন করছে।
পাটুরিয়া নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কেউ নৌপথে ছিনতাই বা চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত রয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযান করতে একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। তাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে।

Design & Developed by BD IT HOST