ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা: ৩৩ বছর ধরে বঞ্চিত অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা

  প্রতিনিধি ৫ মে ২০২৬ , ১২:৩৭:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দেশের বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন’ ওই দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। সেই থেকে শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে বা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। দীর্ঘ ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিগত সরকারের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা।
তারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১২টি অনার্স কলেজ এবং ৪৬টি মাস্টার্স স্তরের কলেজকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করতে বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরূপণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার পূর্বের সেই তালিকা অনুযায়ী এমপিওভুক্তি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বলে দাবি করেন তারা।
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তারা চরম অবহেলার শিকার। এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ অনার্স-মাস্টার্স স্তরটি অন্তর্ভুক্ত না করায় বঞ্চনার মাত্রা আরও বেড়েছে।
সংগঠনের সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্ত যদি বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন না করে, তবে হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে।
ফেডারেশনের সভাপতি নেকবোর হোসেন বলেন, ৩৩ বছর ধরে আমরা বঞ্চিত। এখন সরকার বলছে আগের সিদ্ধান্ত আবার যাচাই-বাছাই করবে। এই দীর্ঘসূত্রতায় আমরা চরম হতাশ। অবিলম্বে দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

মানবিক দিক বিবেচনা করে ন্যায্য দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করেন তারা।

সারা দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা কয়েক শত শিক্ষক এই সমাবেশে অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চান।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST