প্রতিনিধি ২৯ জুলাই ২০২৬ , ৭:৪৯:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেক্স:
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ফুটেজ ইরানের জন্য গোয়েন্দা তথ্য হিসেবে কাজ করছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এ পরিস্থিতিতে কিছু সেনার মোবাইল ফোন শিগগিরই জমা নেওয়া বা জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র।
রয়টার্সের হাতে আসা ২৮ জুলাই তারিখের এক চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, সাংবাদিকদের প্রকাশিত ছবি এবং মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে, তা মূল্যায়ন করতে পারছে।
চিঠিতে তিনি লেখেন, এই উন্মুক্ত তথ্যের মূল্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির মাধ্যমে দিতে হতে পারে।
তিনি সেনাদের প্রতি অপারেশনাল নিরাপত্তা (অপসেক) আরও কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। যদিও চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো নতুন নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি।

ফোন জব্দ হতে পারে
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুইটি সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে জানানো হয়েছে যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জমা নেওয়া হতে পারে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এ ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, এটি মূলত সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি সাধারণ বার্তা। অ্যাডমিরাল কুপার এর আগেও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরানি হামলার ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ
চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মার্কিন সেনারা বাঙ্কারের দিকে দৌড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
কুপার তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ভিডিওটি ক্যামেরাযুক্ত মেটা স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়। এতে সেনারা কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং কীভাবে সরে গেছেন, সে তথ্যও প্রকাশ পেয়ে যায়।
তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক জ্যামিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার কারণে ইরানের পক্ষে হামলার প্রকৃত ফলাফল জানা কঠিন হওয়ার কথা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদন সেই তথ্য সহজেই তাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান জানে তারা অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, নাকি জনবহুল কোনো স্থাপনায় আঘাত হেনেছে—এসব তথ্য তারা উন্মুক্ত উৎস থেকেই জানতে পারছে। ফলে এসব প্রকাশনা কার্যত ইরানের জন্য বিনামূল্যে যুদ্ধক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ করে দিচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের একাংশ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামোর ক্ষতি এবং ইরানে একটি মেয়েদের স্কুলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে মোবাইল ফোনের অবস্থান-ভিত্তিক তথ্য এবং বিভিন্ন অ্যাপ প্রতিপক্ষের হাতে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছে দিতে পারে। মে মাসে রয়টার্স জানিয়েছিল, স্মার্টফোন থেকে সংগৃহীত বাণিজ্যিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে
অ্যাডমিরাল কুপার তার চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে চলে এলে তা ইরানকে আরও ভয়াবহ দ্বিতীয় দফা হামলা চালানোর সুযোগ করে দিতে পারে।


















Design & Developed by BD IT HOST