সারাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে নারীসহ ১৪ দালাল গ্রেপ্তার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা

  প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৩:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১৪ জন সক্রিয় দালালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪ ও জেলা প্রশাসন। পরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-১৪ সদর কোম্পানির কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান।

অভিযানের বিবরণ ও সাজাপ্রাপ্তরা:

অভিযানে আটক ১৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় (সরকারি কাজে বাধা প্রদান) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নিশ্চিত করা হয়। পরে তাদের আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. আতিকুল ইসলাম (৪০),মোহাম্মদ রফিক আলী (৪৫), ইমরান বাদশা (৩০), আসাদ (৪৭), আহসান উল্লাহ (৩৭), মনির (৪৫), টুটুল আমিন (৪০), আনিস হোসেন (৪০), মো. রানা (৩০), মো. সোহাগ মিয়া (৩১), মনির হোসেন (৩৭), শিলা আক্তার (৫১), জীবন হোসেন (২৮), আক্তার হোসেন (৩১)

প্রতারণার অভিনব কৌশল:

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রবেশপথে ওত পেতে থাকত। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের সরকারি সেবার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ছিল তাদের প্রধান কাজ। সেখানে দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের ভুক্তভোগী বাবুল হোসেন জানান, তার ছেলের পায়ে তারকাঁটা লাগার পর হাসপাতালে নিয়ে এলে দালালচক্রের ফাঁদে পড়েন। সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা মিলবে না বলে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচারের কথা বলে কৌশলে ৩৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য:

র‍্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন,শুধু অভিযান পরিচালনা করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একই চক্রের সদস্যরা একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের প্রতারণায় সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা বিলম্বিত হয়ে অনেক সময় মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনাও ঘটছে। তাই এদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের মতে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ডের কারণে একদিকে যেমন রোগীরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
রর‌্যাব জানিয়েছে, সাধারণ রোগীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল চত্বরে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের জনস্বার্থমূলক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দালালচক্রের তৎপরতা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পেলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST