জাতীয়

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় হতে পারে আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর

  প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬:১৭:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় হতে পারে আগামী সপ্তাহে: চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেক্স:
জুলাই আন্দোলন দমনের চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরসহ যে সাতজন, তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আসামি পক্ষ, বাদী পক্ষ—উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এটি রায়ের জন্য থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়।
প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, আসামিরা জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিরা ভূমিকা রাখেন।
তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

সাত আসামির সবাই পলাতক

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সাত আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন। অপর আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

যুক্তিতর্কে যা বলল দুই পক্ষ

গেল ১২ অগাস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়েছে’ দাবি করে তাদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা।
ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মক্কেলরা কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না এবং কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমনে তার মক্কেলদের নাম আসেনি এবং তারা অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
এ সময় বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা— ট্রাইব্যুনালের এমন প্রশ্নের জবাবে এ আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ অগাস্ট পর্যন্ত চলা বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। মামলায় কোনো নারী সাক্ষী না থাকা এবং ভিডিওতে আসামিদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকার প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি চার আসামির খালাস চান।

বিচার প্রক্রিয়ার পূর্বাপর

গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রথম দফায় ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রসিকিউশনের আবেদনে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি নেওয়া হয়।
এরপর ২ অগাস্ট তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য পর্ব চূড়ান্তভাবে শেষ হয়।
সবশেষ ১৭ অগাস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST