প্রতিনিধি ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৫:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা প্রতিনিধি:
আদালতের রায় বাস্তবায়ন, নিজস্ব জমি ও বসতভিটা ফেরত এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার দাবিতে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নাজমা বেগমের পরিবার।
অবস্থান কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্যে নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, ২০১১ সালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি জমি ক্রয় করে তাঁর পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস শুরু করেছিল। কিন্তু সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় প্রায় ১০ বছর আগে তাঁদের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়। কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা নোটিশ ছাড়াই তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে শেখ জামাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রায়ের বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ
নাজমা বেগম জানান, জমি উদ্ধারের জন্য তাঁরা দীর্ঘ আইনি লড়াই চালান। ২০১৪ সালের দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-১১৩/২০১৪ এবং পরবর্তী অন্যান্য মামলায় আদালত তাঁদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা অদ্যাবধি তাঁদের জমির দখল বুঝে পাননি। উল্টো স্থানীয় থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাঁদের নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২১ জুলাই তাঁর একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) কার্যালয়ে তাঁকে তলব করা হয়। তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তার সহকারী কাগজপত্রগুলো গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা
অবস্থান কর্মসূচি থেকে নাজমা বেগম সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, তাঁদের পৈতৃক বা ক্রয়কৃত জমি ও বসতভিটা অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট জমিসংক্রান্ত বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি ঢাকা জেলার সাবেক লালবাগ ও বর্তমান কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নবাবচর মৌজায় অবস্থিত। তাদের মালিকানার পক্ষে সমস্ত বৈধ খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের কাছে সুরক্ষিত রয়েছে।


















Design & Developed by BD IT HOST