সারাদেশ

আদালতের নির্দেশে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ২৭ আগস্ট এজিএম স্থগিত- এবার বোর্ড সংস্কারের দাবি

  প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৪:০৬:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতের নির্দেশে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ২৭ আগস্ট এজিএম স্থগিত- এবার বোর্ড সংস্কারের দাবি

আহসান উল্লাহ খান,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৭ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠেয় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের আপত্তি, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের বোডসভায় অনুপস্থিতি এবং ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও আদালত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট আদালত এজিএম আয়োজনের বিষয়ে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। নথিতে আইনজীবী হিসেবে মি. মিনাল হোসাইনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং এজিএম অনুষ্ঠানের বিষয়ে ‘স্ট্যাটাস কো’ সংক্রান্ত বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোম্পানির চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিগত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বোডসভায় উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় থাকা আহসানুল চৌধুরী ও কোম্পানি সচিব এহসানুল হকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি
এমনকি এই প্রতিবেদক তাদের অফিসে গিয়েও সিও বা সেক্রেটারির সাক্ষাৎ করতে পারেননি বলেও জানান ।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, এসব বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি—এমন দাবি করে কয়েকজন পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার আদালতের দ্বারস্থ হন।
এদিকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন বঞ্চিত পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ, অতিরিক্ত বেতন-ভাতা, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, দাবি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক সার্ভার ব্যবহারের মতো বিষয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা দরকার।
বীমা খাতের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত হওয়া জরুরি। তাদের মতে, কোনো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে যদি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিরোধ, অনিয়মের অভিযোগ এবং আদালত পর্যন্ত যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও পুরো বীমা খাতের স্বার্থে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
তাদের মতে, আইডিআরএর বর্তমান নতুন নেতৃত্ব ইতোমধ্যে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার যে উদ্যোগ দেখাচ্ছে, তার ধারাবাহিকতায় ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের অভিযোগগুলোও দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বঞ্চিত পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা, আদালতের চলমান প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আইডিআরএ নিজস্ব নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার আওতায় দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তাদের দাবি, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে আইডিআরএ যদি আইনসম্মতভাবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে জরুরি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে পারে।
তবে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে এখন প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত সমাধান।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST