সারাদেশ

অপবিত্র হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে মসজিদের ভেতরে ঢোকে না, নামাজ শেষে মুসল্লিদের জুতা গুছিয়ে দেয় শুভ

  প্রতিনিধি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:১১:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

শফিকুল ইসলাম,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার দাসপাড়ার ৬নং ওয়ার্ডের কিশোর আবু বক্কার শুভ (১২)। জন্ম থেকেই মূত্রনালীর সংকোচনজনিত জটিলতায় ভুগছে সে। প্রস্রাবের স্বাভাবিক পথ বন্ধ থাকায় জন্মের পরপরই চিকিৎসকরা তার শরীরে বিকল্প রাস্তা তৈরি করেন। সেই পথ দিয়েই সারাক্ষণ প্রস্রাব ঝরতে থাকায় সবসময় ভেজা কাপড়ে থাকতে হয় তাকে। এই শারীরিক কষ্ট তাকে স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
শুভর জীবনে দুঃখের গল্প আরও গভীর। মাত্র ছয় মাস বয়সে মা তাকে ছেড়ে চলে যান। মায়ের স্নেহ ছাড়াই বড় হতে থাকা শুভর শৈশব পেরিয়েছে অবহেলা আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে। সঠিক পরিচর্যার অভাবে মানসিক বিকাশও স্বাভাবিক হয়নি। কখনও স্কুলে যায়নি, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও পারে না।
শারীরিক সমস্যার কারণে শুভ মসজিদে ঢুকতে ভয় পায়। মনে করে, তার শরীর সবসময় ভেজা থাকায় হয়তো সে অপবিত্র হয়ে যেতে পারে। তাই দূর থেকে মসজিদে আসা মুসল্লিদের জুতা গুছিয়ে দেওয়া—এই কাজই যেন তার স্বস্তির জায়গা। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বাউফল উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের আশপাশে।
শুভর বাবা সুমন হাওলাদার হাসপাতালের সামনে ছোট একটি পানের দোকান চালান। প্রথম স্ত্রী চলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পাঁচ সন্তানের সংসার সামলাতেই হিমশিম খান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পারার কষ্ট বোঝাতে গিয়ে বলেন,
ছেলে জন্ম থেকেই অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন চিকিৎসা করালে ঠিক হতে পারে। কিন্তু খরচের কথা শুনলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। আমার পক্ষে সম্ভব না।
চিকিৎসকদের মতে, শুভর চিকিৎসা ও একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই খরচ অতি সাধারণ মানুষ সুমন হাওলাদারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।
দাসপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“ছেলেটাকে ছোটবেলা থেকেই ভেজা কাপড়েই দেখি। কখনো কাউকে বিরক্ত করে না। উল্টো মসজিদে আসা মানুষের জুতা ঠিক করে দেয়। তার চিকিৎসা খুব দরকার।
স্থানীয় মুসল্লি রুবেল হোসেন বলেন,
শুভ অপবিত্র হয়ে যেতে পারে ভেবে মসজিদে ঢোকে না—এটা ভাবতেই কষ্ট হয়। তার বয়সী বাচ্চারা খেলাধুলা করে, আর সে কষ্ট নিয়ে বাঁচে। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে তার জীবন বদলে যেতে পারে।
স্থানীয় যুবক মোহাম্মাদ বাবু জানান,
“শুভর বাবার অবস্থা সবাই জানে। সংসারই সামলাতে কষ্ট হয়। চিকিৎসার টাকা জোগানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন,
“শুভ জন্মগতভাবে ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার বা মূত্রনালীর সংকোচনে ভুগছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে একাধিক সার্জারি প্রয়োজন। দেরি হলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শুভর সামনে নতুন জীবনের সম্ভাবনা আছে—যদি সমাজের দয়ালু মানুষগুলো তার পাশে দাঁড়ায়। এক টুকরো চিকিৎসাই তার জীবন বদলে দিতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST