প্রতিনিধি ১৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:০২:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা প্রতিনিধি:
শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে এইচএসসি ও সমমনা পরীক্ষার ফল উদযাপন করেছেন রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দে ছাত্রীরা একে অপরকে জড়িয়ে উৎসবে মেতেছেন। ছাত্ররা ঢোলের তালে একে অন্যের কাঁধে চড়ে উল্লাসে ফেটে পেড়েছেন। পাশ থেকে সন্তানদের এমন আনন্দ-উল্লাসে আপ্লুত অভিভাবকরাও। সবমিলিয়ে এইচএসসি ফলাফল ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে।
আনন্দে পিছিয়ে ছিলেন না শিক্ষকরাও। ক্যাম্পাসের খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢোল বাজিয়ে, স্লোগান দিয়ে সবাইকে আরও মাতিয়ে তোলেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল ইসলাম। ফলাফল ঘিরে প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমন উচ্ছ্বাসে এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও বয়ে গেছে আনন্দের বার্তা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬৯৩ জন। এরমধ্যে ১৬৯২ জন শিক্ষার্থীই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশ শিক্ষার্থীদের ১২১৮ জন জিপিএ-৫ অর্জন করায় উৎসবের মাত্রাও ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগের ১১৩৩ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ১১৩২ জনই উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্যে জিপি ৫ পেয়েছেন ৯৬৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৪২৬ শিক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেনে ১৮৬ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩৪ শিক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছেন। এদের মধ্যে ৬৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা।
ফল প্রকাশের আনন্দে সহপাঠীদের সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নূর ইরফান অর্পন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যুগান্তরকে জানায়, আলহামদুলিল্লাহ, আজকের দিনটির জন্য আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। এখন ফিল হচ্ছে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করাটা কেন জরুরি। ইনশাআল্লাহ, উচ্চ শিক্ষার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেব। ভবিষ্যতে আমি গবেষণামূলক কাজ করতে চাই।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী নওশীন ইসলাম বলেন, পরীক্ষা খুব কড়াকড়ির মধ্যেই হয়েছে। তবুও ভালো ফলাফলের বিষয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। রেজাল্ট জানানোর পর আব্বু-আম্মুও খুশি হয়েছেন।
বোর্ডে নিজ রোলের পাশে জিপিএ-৫ দেখতে পেয়ে দুই সহপাঠী অধরা হাসান অথৈ ও মিথিলা জামান মিথিকে জড়িয়ে ধরে অনুভূতি প্রকাশ করা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী রাইমা খান জানান, আমরা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছি। তাই খুব ভালো লাগছে। এই কৃতিত্বের জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। বাবা-মা, শিক্ষক সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে চার্টাট একাউন্টেন্ট হতে চাই।
সুফিয়ান বিন আজাদ নামে বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্র জানান, রেজাল্ট খুব ভালো লাগছে। আমার সঙ্গে আমার বাবা-মা ও ছোট বোন এসেছে। জিপিএ-৫ পাওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
অনুভূতি জানতে চাইলে জিপিএ ৫ পাওয়া অপর ছাত্রী সাদিয়া রহমান দিয়া যুগান্তরকে জানায়, আমার এই ভালো ফলাফলের পেছনে আমার বাবা-মায়ের দোয়া ছিল। শিক্ষকরা অনেক গুরুত্ব দিয়ে আমাদের পাঠদান করিয়েছেন। ভবিষ্যতে আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।
ছেলে সুফিয়ান জিপিএ ৫ পাওয়ায় রেহেনা হাসান নামে এক মা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, মা হিসেবে এটা সত্যিই আনন্দের। ছেলেকে মানুষ করার জন্য আমাদের চেষ্টা সফল হয়েছে। আমি চাই, আমার ছেলে বড় হয়ে চিকিৎসক হোক। আমার ছোট মেয়েকেও আমি ডাক্তার বানাব।
ইসমাইল আহসান নামে অন্য এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবুও আমি বলব জিপিএ-৫ পাওয়াটাই পুরোপুরি সাফল্য নয়। এখনো তাদের উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টা বাকি আছে। আমি চাই, আমার মেয়ে সফলতার সঙ্গে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হোক। তবেই বাবা হিসেবে আমার সার্থকতা আসবে।
উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বছর আমাদের পাশের হার ৯৯.৯৪ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ ফলাফল আমাদের শিক্ষকদের নিবেদন, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও অভিভাবকদের সহযোগিতার ফল। আমরা শুধু ভালো ফল নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এক প্রজন্ম গঠনের চেষ্টা করছি। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ করেন তিনি।


















Design & Developed by BD IT HOST