সারাদেশ

বাউফলে ননদের দেওয়া ভাতের মাড়ে গৃহবধূ দগ্ধ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ

  প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৬ , ৭:১১:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক অসুস্থতার জেরে এক গৃহবধূর শরীরে ফুটন্ত ভাতের মাড় ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দগ্ধ গৃহবধূ শারমিন বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
শনিবার ( ৪ জুলাই) দুপুরে কর্পূরকাঠী গ্রামে নিজ ঘরের রান্নাঘরে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন শারমিন বেগম। ভাত প্রায় শেষ পর্যায়ে এলে তিনি পাশে বসে সবজি কাটছিলেন। এ সময় তার ননদ সালমা বেগম আকস্মিকভাবে ফুটন্ত ভাতের পাতিল থেকে গরম মাড় শারমিনের শরীরে ঢেলে দেন। এতে তার পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে ঝলসে যায়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: মোস্তাফিজুর রহমান জানান:
ফুটন্ত ভাতের মাড় আঠালো প্রকৃতির হওয়ায় তা দ্রুত ত্বকের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শারমিন বেগমের স্বামী দুলাল প্যাদা জানান, তার বোন সালমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। কোনো পূর্ব শত্রুতা নয়, বরং আকস্মিক মানসিক উত্তেজনার বশবর্তী হয়েই তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST