গনমাধ্যাম

সাংবাদিক রূপা, শাকিল, বাবু ও শ্যামলের মুক্তি চাইল সিপিজে

  প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:১৯:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপর গ্রেফতার হওয়া চার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনটি এ দাবি জানিয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছে।
ই-মেইলে দেওয়া চিঠিতে সিপিজে বলছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত মামলা তুলে নেওয়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বিএনপির সরকার মানবে বলেই সংগঠনটি আশা করে।
সিপিজের তরফে মুক্তি দাবি করা চার সাংবাদিক হলেন—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত।
ই-মেইলে সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার লিখেছেন, (বাংলাদেশের) নতুন প্রশাসনের প্রথম মাসগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে উৎসাহব্যঞ্জক ইংগিত দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সময়ের কর্মকাণ্ড থেকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য দূরত্ব বজায় রাখাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধকারী আইন পর্যালোচনা এবং সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করার মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো সিপিজেসহ অনেক পর্যবেক্ষককে আশাবাদী করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই আমরা সম্মানপূর্বক বিষয়টি আপনার নজরে আনছি।
চার সাংবাদিককেই হত্যা মামলায় ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে জানিয়ে সিপেজে বলেছে, আমাদের নথিপত্র, তাদের পরিবারের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। এ মামলাগুলোর ধরন দেখে মনে হয়, এগুলো সাংবাদিকদের প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত—যে ধরনের চর্চা থেকে আপনার সরকার প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছে।
চিঠিতে গ্রেফতারদের মানবিক পরিস্থিতিও তুলে ধরেছে সিপিজে।
ফারজানা রূপা: ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছিল।
শ্যামল দত্ত: ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার স্ট্রোক হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে জানানো হয়নি। তার হৃদরোগ এবং মারাত্মক ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র ইতিহাস রয়েছে, যা কারা হেফাজতে আমলে নেওয়া হয়নি।
মোজাম্মেল বাবু: সেপ্টেম্বরের একই দিনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের শেষের দিকে তার প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং একটি বড় অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন না, যা তাকে ফের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রেখেছে।
সিপিজে বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার কথা বলা আছে।
এ বিষয়গুলোর আলোকে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের জন্য বিবেচনা করতে এবং পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ করে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সিপিজে। আর সেই ফল আসার আগ পর্যন্ত গ্রেফতারদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST