প্রতিনিধি ২৭ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:৩৯:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আত্মীয়ের বাসা থেকে স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিতে আসেন স্বামী হেলাল উদ্দিন। সঙ্গে নিয়ে আসেন তিন বন্ধুকে। এ সময় স্ত্রীর চিৎকারে আটক হন তিন বন্ধু। পরে পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড এলাকার আবু মিয়ার সমাজের রফিক মিকারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বামী হেলাল উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান।
সোমবার সকালে আটকদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়।
গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শহীদনগর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মাইনউদ্দিন (২১), মো. কামাল হোসেনের ছেলে মো. ফরহাদ (১৯) ও রিপনের ছেলে ফারুক প্রকাশ (সুকু) (১৮)। তারা তিনজনই পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে।
রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী হেলাল উদ্দিন তার অপর তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় স্ত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। মুহূর্তেই ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে চারদিকে সোর-চিৎকার শুরু হয়। এক পর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন মুয়াজ্জিন। ঘোষণা শুনে শত-শত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে ধাওয়া করে তিন যুবককে আটক করেন। আটকের পর
তাদের স্বামী স্ত্রী উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলে আসছে বলে জানতে পারেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, স্ত্রীর বাবা চাইছেন না তার মেয়ে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। যে কারণে তিনি জামাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছেন। এরইমধ্যে স্ত্রী তার মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সেখানে স্বামী ছুটে আসেন এবং তাকে তুলে নিতে চেষ্টা করেন।
তারা আরও জানান, স্ত্রীই স্বামীকে খবর দিয়ে এনেছেন। পরে কৌশলে ডাকাত বলে চিৎকার দিয়ে একটা ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। আর না যাচাই-বাছাই ছাড়াই গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহ করে যুবকদের আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল হাসান বলেন, তাদের স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মোবাইলে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরও জানতে তদন্ত চলছে।


















Design & Developed by BD IT HOST