সারাদেশ

বাউফলে চলাচলের অযোগ্য রাস্তা,দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ চার গ্রামের মানুষ

  প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২৫ , ৭:৪৫:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কটি প্রায় চার দশক ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা-পানিতে ডুবে থাকে পুরো সড়ক। ফলে শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়, আবার প্রায়ই পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর গ্রামের ফকির বাড়ির সামনে থেকে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার মাটির রাস্তা চার দশক আগে নির্মিত হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। রাস্তাজুড়ে অসংখ্য গর্ত, বর্ষায় সেগুলোতে জমে থাকা পানি স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী উম্মে খাদিজা, ফাতেমা আক্তার ও জান্নাত আক্তার জানান, বর্ষায় প্রতিদিন কাদা-পানির সঙ্গে লড়াই করে মাদ্রাসায় আসতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহতও হতে হয়। তারা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া (৫৫) বলেন,এই সড়ক দিয়ে চার-পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় তো একেবারেই যাতায়াত করা যায় না। কোনো অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। এমনকি এই রাস্তাটির কারণে বিয়ের সম্পর্ক করতেও অনীহা দেখা দেয়।
অন্য এক বাসিন্দা আব্বাস হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,৪০ বছরের পুরোনো এই রাস্তার উন্নয়নের জন্য বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। বছরের পর বছর আমরা একই দুর্ভোগে আছি।
রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজাহার উদ্দিন জানান, ১৯৮৫ সালে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে এই মাটির রাস্তা তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থীসহ কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, “বর্ষায় রাস্তাটি একেবারেই অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে, শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জোর দাবি জানাই।
চার দশক ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই রাস্তাটি এখনই সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে গ্রামীণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST