প্রতিনিধি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৩৭:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট: প্রেষণে ৫ জন, সেবা চলছে জোড়াতালিতে।

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে নতুন করে চালু করা হয়েছে ডেঙ্গু ওয়ার্ড। চিকিৎসক, ওষুধ ও জনবলসংকটের মধ্যেই চলছে চিকিৎসাসেবা। গত বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলায় আশপাশের উপজেলা থেকেও ডেঙ্গু রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১০ হাজার ৮০৩ জন রোগী। এছাড়া জরুরি বিভাগে ৭৯৫ জন এবং অন্তর্বিভাগে (ভর্তি) চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৮২ জন রোগী।
মোট চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৩৯৩ জন। হাসপাতালটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী এখানে ভর্তি হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঞ্চম তলায় একটি বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় সবাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গত এক মাসে হাসপাতালে মাত্র একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাসেল। তিনি বলেন, “হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ১০০ শয্যার হলেও এখানে মাত্র ৫০ জন রোগীর জনবল, ওষুধ ও খাবার সরবরাহ রয়েছে। অথচ বর্তমানে ৮৮ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে ৩৯ জনই ডেঙ্গু আক্রান্ত। ডাঃ রাসেল আরও জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশ গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও রাজধানীর বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত। তারা কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় জ্বরে আক্রান্ত হন এবং বাড়ি ফিরে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসকের ৪৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। তবে এই ১২ জনের মধ্যেও ৫ জন প্রেষণে অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে চিকিৎসকের ২৮টি পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণীর ৩৫টি পদের বিপরীতে ৩৪ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ১২৪টি পদের বিপরীতে ৭০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর ২৬টি পদের বিপরীতে মাত্র ৯ জন কর্মরত আছেন। বর্তমানে মোট ২৩০ জন জনবলের বিপরীতে মাত্র১৩০ জন নিয়ে কোনোমতে চলছে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।


















Design & Developed by BD IT HOST