প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৪:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ ও অনলাইনে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. ইকবালকে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযুক্ত ইকবাল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সংবাদটি অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য তীব্র চাপ সৃষ্টি করেন।
অশালীন আচরণ ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংবাদ অপসারণের চাপের একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকি তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই বিষয়ে আরেকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, ওই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের সঙ্গেও মুঠোফোন এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংবাদটি মুছে ফেলার জন্য অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও হয়রানি
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে কেবল মুঠোফোনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি হুমকি, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক বেনামি ও ফেক আইডি ব্যবহার করে তাদের নিয়মিত হয়রানি এবং মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
সংবাদকর্মীরা জানান, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ গণমাধ্যমের একটি নিয়মিত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রকাশিত কোনো সংবাদে কারো দ্বিমত বা আপত্তি থাকলে তার জন্য প্রেস কাউন্সিল কিংবা প্রচলিত আইনগত পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু এভাবে সরাসরি সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের অন্তরায় এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রশাসনের বক্তব্য
নিজেদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বেগমগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















Design & Developed by BD IT HOST