সারাদেশ

ফারদিনের বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে ২০৪ জাতের আঙুর

  প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০২:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে দেড় বিঘা জমিতে বাইকুনুর, ফ্যান্টাসি, ভ্যালেজ, রুরিনোমান, একোলা, ব্লাক ম্যাজিক, জয়সিডলেস, ল্যাম্বরগিনি, এলিস ইন ওয়াল্যান্ডার ল্যান্ডসহ ২০৪ জাতের আঙুরের চারা রোপণ করে সাড়া ফেলেছেন রাজবাড়ীর এএস ফারদিন আহমেদ।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের তরুণ উদ্যোক্তা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গ্রেপ ইঞ্জিনিয়ারিং এগ্রো অ্যান্ড রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ফারদিন আহমেদের অজপাড়াগাঁয়ের এ আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই লোকজন আসছেন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে।
বাগানে আঙুর দেখতে আসা বেশির ভাগ দর্শনার্থী জানান, এভাবে গ্রামের মধ্যে আঙুর চাষ করা এর আগে কখনো দেখেননি।
এএস ফারদিন আহমেদ জানান, ২০২০ সালে করোনার সময় নিজের কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসন। শখ করে বাড়ির উঠানে রোপণ করেন একটি আঙুর গাছ। গাছটিতে ফলন এলেও ছিল না খাওয়ার উপযোগী। তবে এতেও তিনি হাল ছাড়েননি। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে বাড়ির পাশেই তার নিজের দেড় বিঘা জমিতে শুরু করেন বাণিজ্যিক আঙুর চাষ। একেক করে রোপণ করেন ২০৪ জাতের প্রায় ৫০০টি গাছ।
তার এমন আঙুর চাষের কর্মকাণ্ড দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছেন এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলাতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্যাকেট করে আঙুরের চারা বিক্রি করছেন। এটিকে লাভজনক ব্যবসা বলেই মনে করেছেন তিনি।
ভবিষ্যতে এই আঙুর বাগানকে ঘিরে এক সময় রিসোর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এছাড়াও আঙুর ও চারা বিক্রি করে প্রতি বিঘায় বছরে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
তবে বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ হয় না; এমন ধারণা থেকে ফারদিনের আহমেদের আঙুর বাগান করা। প্রথম দিকে তার এসব কাজ করা দেখে গ্রামের লোকজন হাসাহাসি করতেন। পরে তার বাগান করা দেখে এখন গর্ববোধ করছেন।
তার পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, গ্রামের ভেতর ও অনেকখানি জমি নিয়ে করা আঙুরের চারা রোপণ করা দেখে আমরা বেশ খুশি। সে ভালো যত্ন নিয়ে আঙুর বাগান করছে।
অপর বাসিন্দা সেলিনা আক্তার বলেন, সম্পর্কে আমাদের দেবর হন ফারদিন। নিজ এলাকায় আঙুর গাছের থোকায় থোকায় আঙুরগুলো গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তার এমন আঙুর গাছ রোপণের পর কৃষি বিভাগ ফারদিনকে পরামর্শসহ সাহায্য সহযোগিতা করলেই সে বাংলাদেশের মধ্যে সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত হবেন।
আঙুর বাগানের ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আঙুর বাগানে ২০৪ জাতের ভ্যারাইটিস আঙুর ফলের চারা লাগানো হয়েছে। আমি এখান থেকে ছোট চারাগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিই। প্রতিদিনই কাছের লোকজন এসে চারাগুলো নিয়ে যান। স্যারের এমন কর্মকাণ্ড এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার যুগান্তরকে বলেন, সরেজমিন ফারদিনের আঙুর চাষের কাজ দেখেছি। সত্যিই এটা প্রশংসার দাবি রাখে। গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST