প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:৪৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেক্স:
দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্য এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট বেঁধেছেন দেশটির দুই হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদ। ডানন্থি ও মধ্যপন্থিদের এ ‘সুপার কোয়ালিশন’ গঠনের ঘোষণা চলতি বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা এ জোটকে হাঙ্গেরির সেই জোটের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা কট্টরপন্থি ভিক্টর অরবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল। বেনেটের দল ‘বেনেট ২০২৬’ এবং লাপিদের মধ্যপন্থী দল ‘ইয়েশ আতিদ’ একীভূত হয়ে নতুন এ জোট গঠন করেছে।
রাজনৈতিক এ নাটকীয় মোড় এমন এক সময়ে এল যখন নেতানিয়াহু তার প্রস্টেট থেকে একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার অপসারণের খবর প্রকাশ করেছেন। এ অসুস্থতার খবর প্রকাশের সময় এবং বিস্তারিত তথ্যের অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গত রোববার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাপিদ বলেন,আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আমরা আজ এক হয়েছি। ইসরাইল রাষ্ট্রের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি’।তার পাশেই দাঁড়িয়ে বেনেট ঘোষণা করেন, তাদের নতুন দলের নাম হবে ‘টুগেদার’ (একত্রে) এবং তিনি নিজেই এ দলের নেতৃত্ব দেবেন। বেনেট বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর পর এখন নেতানিয়াহুকে বিদায় জানিয়ে ইসরাইলের জন্য নতুন এক অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে।
বেনেট সাবেক সেনাপ্রধান এবং ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকেও এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জনমত জরিপ বলছে, এই তিন নেতা এক হলে তা নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে। আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা না দিলেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘মারিভ এর এক জরিপে দেখা গেছে, বেনেটের দল একাই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমান ২৪টি আসন পেতে পারে। পাশাপাশি আইজেনকোটের ১২টি এবং লাপিদের ৭টি আসন যুক্ত হলে তা নেতানিয়াহুর জন্য অপরাজিত থাকা অসম্ভব করে তুলবে।
তবে ইসরাইলের জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে বেনেটের জন্য ঝুঁকিও আছে। লাপিদের মতো মধ্যপন্থির সঙ্গে হাত মেলালে বেনেট তার কট্টর লিকুদপন্থি সমর্থকদের একাংশকে হারাতে পারেন।
এর আগে ২০২১ সালেও এই দুই নেতা জোট বেঁধে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু আদর্শিক ভিন্নতা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ নানা কোন্দলে সেই সরকার মাত্র ১৮ মাস টিকে ছিল। সেই জোটে প্রথমবারের মতো ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘুদের দল ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ (ইউএএল) অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এবার বেনেট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আর আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট করবেন না এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য কোনো ভূমি ছেড়ে দেবেন না।
ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু ২০২২ সালের নির্বাচনে জিতে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকার গঠন করেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তার ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার’ ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নন। রোববারই তিনি ২০২১ সালের সেই বিতর্কিত জোটের একটি ছবি পোস্ট করে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, তারা আগেও এটি করেছিল, আবারও করবে।
এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং কর ব্যবস্থার অসমতা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে অব্যাহতির দাবি নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যবিত্তরা ক্ষুব্ধ। লাপিদ ও বেনেট উভয়েই এ ইস্যুটিকেতাঁদের প্রচারণার অস্ত্র বানিয়েছেন। এছাড়া ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাস ইস্যুতে নেতানিয়াহুর কৌশলগত ব্যর্থতা নিয়েও তারা সরব হয়েছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৫৪ বছর বয়সী সাবেক কমান্ডো বেনেট এবং ৬২ বছর বয়সী জনপ্রিয় উপস্থাপক থেকে নেতা হওয়া লাপিদের এই রসায়ন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।












Design & Developed by BD IT HOST