প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৪০:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ইপাজ খাঁ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু নির্মাণের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও তা জনকল্যাণে কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এক দশক ধরে সেতুটি পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ফলে এই পথে যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ বা গবাদিপশুও চলাচল করতে পারছে না। এলাকাবাসীর কাছে এটি এখন উন্নয়নের সুফলের চেয়ে দুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোগান্তির আবর্তে দুই এলাকা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরষপুর রেলওয়ের ৩২ নম্বর ব্রিজের পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হলেও হাসিনাবাদ–জামালপুর সংযোগ সেতুটি আজও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। হরষপুর থেকে কাশিমনগর যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ পথ এটি। কিন্তু সেতুটি অকার্যকর থাকায় মাত্র ৪ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে স্থানীয়দের এখন ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল ব্রিজ পারাপার
বর্ষাকালে নালায় পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল ব্রিজের ওপর কাঠের তক্তা বিছিয়ে পারাপার হন। প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা এই রেল ব্রিজ পার হতে একজন সুস্থ মানুষের ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে। ব্রিজের ওপর থাকা অবস্থায় হঠাৎ ট্রেন চলে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য এই পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বঞ্চিত উন্নয়ন থেকে
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা দীর্ঘকাল ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ২০১০ সালে হরষপুর থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত আধা-পাকা রাস্তা তৈরি করা হলেও শুধুমাত্র এই সংযোগ সেতুর অভাবে পুরো রাস্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। দ্রুত এই সংকট নিরসনে তারা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সেতুটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে দ্রুত সেতুটি চালু করা হোক, যাতে দীর্ঘ এক দশকের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের অবসান ঘটে।












Design & Developed by BD IT HOST