সারাদেশ

ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, শঙ্কায় ২৫ পরীক্ষার্থী

  প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ৮:১৮:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির দুটি কক্ষে বসা নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুলবশত অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে লিখিত প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর তারা বুঝতে পারেন যে, তাদের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ‎এ ঘটনার পরপরই পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কেন্দ্রসচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানান। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কলেজ প্রাঙ্গণে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে।
‎ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলছড়ি উপজেলার বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, তারা পরীক্ষার সময় বুঝতেই পারেননি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানতে পেরে তারা হতবাক হয়ে পড়েন। তাদের আশঙ্কা, এ ভুলের কারণে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডের দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত দাবি করেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়টি আমি শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
‎অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ওসি মশিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর কথা। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করারও সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST