প্রতিনিধি ২০ জুন ২০২৪ , ১১:০৭:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ডেক্স রিপোর্ট:
দুর্নীতির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদের বৈঠকে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এই দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হয় না। ফলে খরচ বাড়ে, জনগণের হয়রানি বাড়ে। আমলাদের একটি অংশ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠেছে এবং তাতে জনগণের হয়রানি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন এ কে মোমেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি গত ১৬ বছর ধরে যেভাবে ধরে রেখেছেন, তা বিশ্বের বিস্ময়। বর্তমানে তাঁর এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে দুর্নীতি। অল্প সংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ আমলার জন্য সারা আমলাতন্ত্র বদনামের ভাগিদার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এই বাজেটে দুর্নীতি ও বিদেশে টাকা পাচার বন্ধের নির্দেশনা ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে। সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বার্ষিক হিসাব বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এসব ব্যাপারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করলে দুর্নীতি কমবে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাঠে ময়দানে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণ নাগরিক এখন অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে। তারা সবাই জাতির আস্থা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকের মধ্যে বড় প্রশ্ন রয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অধিকতর কর্মসংস্থান, রাজস্ব বৃদ্ধি, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও প্রশাসনের হয়রানি নিয়ে। দেশে যথেষ্ট কর্মসংস্থান না থাকায় প্রতিবছর হাজার হাজার কর্মক্ষম লোক বৈধ ও অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে।
এ কে মোমেন বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকের বেহাল অবস্থা। বাজেটে এর প্রতিকারের কথা থাকলে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো বরং কালো টাকাকে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে সাদা করার ঘোষণায় যারা সৎ করদাতা তারা হতাশ হয়েছেন। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এ সভাপতি বলেন, দেশের স্বার্থে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা অর্জনে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো না বললে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি অবিচার করা হয়।
এক দিনের নির্বাচনের সন্তুষ্টি কি গণতন্ত্র নিশ্চিত করে
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রতি পাঁচ বছর পর এক দিনের নির্বাচনের সন্তুষ্টি কি গণতন্ত্র নিশ্চিত করে? বিশেষত যারা জয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না বলে পণ করেছেন; জনগণের রায়ের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে নির্বাচন বর্জনের পথে বারবার হাঁটেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করলেই কি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে?
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যাদের দলেই গণতন্ত্র নেই; এই শুনছি, সব নেতা পাল্টে যাচ্ছেন, কোনো সম্মেলনের কথা শুনিনি। তাহলে এ দলে গণতন্ত্র কোথায়? কী পদ্ধতিতে তাদের দল পুনর্গঠিত হয়, সেটা বুঝতে পারি না। তাদের জন্ম অবৈধ সেনা শাসকদের পকেট থেকে। তাদের মুখ থেকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে আর ভালো লাগে না।
ডা. দীপু মনি বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ তার উন্নততর, সচ্ছল জীবন যদি নিশ্চিত করা যায়; তার যদি চলবার, বলবার, করবার, জানবার অবাধ স্বাধীনতা থাকে, তবে কি সে এক দিনের নির্বাচন ব্যবস্থার ঘাটতিকে বড় করে দেখে, নাকি সে তার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে? সেই সন্তুষ্টিকে কি আমরা ছোট করে দেখতে পারি?
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এক সময় মানুষ পুলিশ দেখলে ভয় পেত। এখন পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাসের জায়গায় চলে এসেছে। যে কোনো ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ হাজির হচ্ছে; অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস হাজির হচ্ছে। পুলিশ এখন জনগণের সেবক হয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের কাছে যায়। একইভাবে এলিট ফোর্স র্যা ব তাদের দক্ষতা, সক্ষমতার মাধ্যমে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যা বের কারণে জঙ্গি দমন সম্ভব হয়েছে।


















Design & Developed by BD IT HOST