প্রতিনিধি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৭:৩০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফার্নিচার বোঝাই পিকআপে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সাত ডাকাত গ্রেফতার হয়েছে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ডাকাতরা হচ্ছে— উপজেলার রহিমাবাদ উত্তরপাড়ার শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রাতুল, সদরের সাতশিমুলিয়া গ্রামের আলমগীর প্রামানিকের ছেলে সুমন প্রামানিক, শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার গোলাম পাশা পুটুর দুই ছেলে সাব্বির পাশা শাওন ও মোস্তফা পাশা শ্যামল, মালগ্রাম উত্তরপাড়ার কামাল মিয়ার ছেলে কালাম ওরফে সুরমা কালাম ওরফে জামাল, নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার সাজ্জাদের ছেলে রাসেল আহম্মেদ এবং সাবরুল কারিগরপাড়ার বিপুল হোসেনের ছেলে তারেক হোসেন।
মৌলভীবাজার সদরের জগন্নাথপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে পিকআপের মালিক আরিফ হোসেন (৪০) এজাহারে উল্লেখ করেন, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিক্রমপুর কামারগাঁও গ্রামের জালাল বেপারির ছেলে আল আমিন (৩৫) ও হেলপার রাজবাড়ীর পাংশ উপজেলার গুদিবাড়ী গ্রামের মো. নুরুর ছেলে মো. রফিক দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় পিকআপে মালামাল পরিবহণ করেন।
তারা ১২ আগস্ট রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মহানগরের কেরানীগঞ্জ উপজেলার বছিলা এলাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ফার্নিচার লোড করেন। এরপর ফার্নিচারগুলো গাইবান্ধা ও দিনাজপুরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রওনা দেন।
তারা রাত সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওভারপাসের উপরে পৌঁছেন।
এ সময় তিনটি প্রাইভেটকারে অজ্ঞাত কয়েকজন পুলিশের ব্যবহৃত লাল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার করে পিকআপ থামাতে বাধ্য করে। এ সময় ১৪-১৫ জন ডাকাত নিজেদের ডিবি পুলিশের লোকজন পরিচয় দেয় ও চালক আল আমিনের হাতে হাতকড়া পড়ায়।
এরপর পিকআপের চালক ও হেলপার রফিককে প্রাইভেট কারে তুলে গামছা দিয়ে চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে। চিৎকার করলে তাদের মারপিট ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ডাকাতরা পিকআপ চালক ও হেলপারের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ তিন হাজার টাকা কেড়ে নেয়। ডাকাতদল তাদের নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ভোর ৫টার দিকে বগুড়া সদরের ধনিয়াতলা এলাকায় দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কে পৌঁছে।
সেখানে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় চালক ও হেলপারকে মহাসড়কের পাশে গর্তে ফেলে দেয় ডাকাতরা। এরপর তারা সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের পিকআপ ও সোয়া লাখ টাকা মূল্যের ফার্নিচার নিয়ে পালিয়ে যায়।
পিকআপের মালিক আরিফ হোসেন গত ১৩ আগস্ট বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় একটি মামলা করেন। থানার এসআই রাসেল আহম্মেদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রাত ১১টার দিকে সন্দিগ্ধ আসামি মো. রাতুলকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে ডাকাতির কাছে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। রাতুলের দেওয়া তথ্যমতে, র্যাব ও শাজাহানপুর থানা পুলিশ ১৭ আগস্ট রাতে সন্দিগ্ধ আসামি সুমন প্রামানিক, সাব্বির পাশা শাওন, তার ভাই মোস্তফা পাশা শ্যামলকে গ্রেফতার করে।
আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ফার্নিচার ডাকাতির কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে র্যাব ও শাজাহানপুর থানা পুলিশ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কালাম ওরফে সুরমা কালাম ওরফে জামাল, রাসেল আহম্মেদ এবং তারেক হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রাতুলের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন ধারায় পাঁচটি, সাব্বির পাশা শাওনের বিরুদ্ধে তিনটি, মোস্তফা পাশা শ্যামলের বিরুদ্ধে ছয়টি, কালাম ওরফে সুরমা কালাম ওরফে জামালের বিরুদ্ধে ১১টি, রাসেল আহম্মেদের বিরুদ্ধে চারটি এবং তারেক হোসেনের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।


















Design & Developed by BD IT HOST