প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২৬ , ১২:৫৭:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান তাদের দেশে পুনরায় আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই প্রধান দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে আলোচনা খুব দ্রুত, এমনকি আজ সোমবার (২২ জুন) থেকেই শুরু হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স জানান, যুদ্ধ অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সোমবার মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এই আলোচনাকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আমেরিকান হিসেবে পরমাণু ইস্যুর এই অগ্রগতি আমাদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে। তিনি এটিকে মার্কিন জনগণের জন্য একটি বড় মাইলফলক এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার পরিদর্শকরা কবে নাগাদ ইরানে ফিরবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এই প্রক্রিয়াটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন। এর আগে ২০১৫ সালে হওয়া ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই পরিদর্শনের বিষয়টি স্থবির হয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পর ইরান আইএইএ-এর পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করে এবং এর পরের মাসে সংস্থাটি তাদের সব পরিদর্শক কাতার থেকে ফিরিয়ে নেয়। বর্তমান সমঝোতা স্মারকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইএইএ-কে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে চলমান এই আলোচনা থেকে ইরানের প্রধান আলোচনাকারীরা সোমবার বিদায় নিলেও কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি স্থায়ী ‘যোগাযোগ লাইন’ স্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি একে প্রথম ‘আসল পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ সাম্প্রতিক চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় পাঁচ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি।


















Design & Developed by BD IT HOST