সারাদেশ

ঈশ্বরগঞ্জে চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা: থানায় অভিযোগ

  প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০২৬ , ৬:১৫:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রী নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
অভিযোগকারী মনি চন্দ্র দে জানান, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্ণা রানী দে (মায়া)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে তার স্ত্রী প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা ঝর্ণা রানীকে একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ঝর্ণা রানী প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। যাওয়ার সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশী চাচির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি সত্য বলে দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযোগকারীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে রুদ্র চন্দ্র দের চাচা রনজিৎ চন্দ্র দে বলেন, তার ভাতিজার সঙ্গে ঝর্ণা রানীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে রুদ্র তাকে নিয়ে পালিয়ে যাননি। বরং ঝর্ণা রানী তার স্বামীকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, মনি চন্দ্র দের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST