প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:৩০:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে। খবর টাইমস অব ইসরাইল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে তারা আশাবাদী। এদিকে বুধবার একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছে ইসলামাবাদে হওয়া আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করেছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার মেয়াদ নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, পরবর্তী আলোচনা খুব সম্ভবত পাকিস্তানের রাজধানীতেই হবে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তারা ইতিবাচক।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের সামনে একটি ‘বড় সমঝোতা’ প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের সমাধান সম্ভব।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইসরাইলকে নিয়মিত অবহিত করছে এবং দুই দেশের লক্ষ্য এক। তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হবে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে। এটি বর্তমানে ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মার্কিন অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা কীভাবে এগোবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য কঠিন সময় সামনে আসবে এবং উচ্চ তেলের দাম খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।
মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিষয়ে সমাধান খুঁজছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যদিও এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের অবরোধে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ১০টি জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক শিপিং ডেটা ও ইরানি গণমাধ্যম বলছে, কিছু ক্ষেত্রে জাহাজ চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ তুলে না নিলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।


















Design & Developed by BD IT HOST