জাতীয়

অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেআইবি প্রশাসকের অপসারণ চায় এ্যাব

  প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:৪১:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশে (কেআইবি) অবিলম্বে একজন নিরপেক্ষ ও জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদকে প্রশাসক নিয়োগ এবং বর্তমান প্রশাসক আবদুর রব খানের নিয়োগ ও অনিয়মের বিচার দাবি করেছে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এ্যাব নেতারা বলেন, কেআইবিতে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতি তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন, দ্রুত সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন তফশিল ঘোষণা এবং কৃষিবিদদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সংগঠনের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ১২ ফেব্রুয়ারি আবদুর রব খানকে ৯০ দিনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল, যাতে তিনি নির্বাচন আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালন না করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তার মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত করা হলেও তিনি নির্বাচন আয়োজন না করে কেআইবির তহবিল থেকে কোটি টাকার উন্নয়ন, মেরামত ও নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হন।
সংগঠনটির সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব অভিযোগ করেন, প্রশাসকের উন্নয়নকাজ, নিয়োগ বা চাকরিচ্যুতি করার কোনো এখতিয়ার নেই। তবুও তিনি নিজের পছন্দের লোক নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোটেশন ছাড়া ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, এসি মেরামতে ৯৩ হাজার টাকার কাজের বিল দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার, ছাদ মেরামতে ১০ লাখ টাকার কাজ ১৫ লাখে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ২ লাখ টাকার কাজ ৫ লাখ টাকায় দেখানো হয়েছে। তিনি মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বেতন, ১ লাখ টাকার তেল খরচ, ঈদ বোনাস ও নববর্ষ ভাতা নিয়েছেন এবং নিজের পছন্দমতো অডিটর নিয়োগ দিয়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।
শাহাদত হোসেন বিপ্লব আরও বলেন, মেয়াদ তিন দফা বাড়িয়েও তিনি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেননি। বরং গঠনতন্ত্র পরিপন্থি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, যার সদস্যরা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের অনুসারী। এ কারণে কৃষিবিদ সমাজে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তার অপসারণ দাবি করেন।
এ্যাব নেতারা জানান, তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে আগামী তিন দিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদদের সমন্বয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে এবং ততদিন বর্তমান প্রশাসকের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কেআইবি হলো কৃষিবিদদের অর্থে গড়া প্রতিষ্ঠান। এটির স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তাই আবদুর রব খানকে বৈধ নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অফিসে না আসার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু এরপরই কৃষিবিদদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও অরাজকতার মিথ্যা মামলা করা হয়, যাতে আমরা বিস্মিত হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান আমরা অতীতে রক্ষা করেছি,এখনো আমরাই রক্ষা করব। আমরা কেন ভাঙতে যাব?
সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে এ্যাব নেতারা বলেন, কেআইবিকে অস্থিতিশীল করতে ধর্মভিত্তিক এক রাজনৈতিক শক্তির ইন্দন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন চঞ্চল, সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) অধ্যাপক জমশেদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST