প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ৮:৫৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
স্বামীর ভিটেমাটি লিখে দিয়েও মিলল না ঠাঁই: বার্ধক্যে সন্তানদের অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার বিধবা সোনাভান

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
প্রায় ৩৫ বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে তিন ছেলেকে একা লালন-পালন করে বড় করেছিলেন হতভাগ্য সোনাভান বেগম (৭০)। স্বামীর ভিটেমাটি সব ছেলেদের নামে লিখে দিলেও বার্ধক্যে এসে সেই সন্তানদের কাছ থেকেই মিলছে অবহেলা, অপমান ও শারীরিক নির্যাতন। এমনকি নিজ হাতে লাগানো সবজি গাছগুলোও রেহাই পায়নি ছেলে ও পুত্রবধূদের রোষানল থেকে।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের কাঁকড়া পিংলু গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৩৫ বছর পূর্বে স্বামী আজগর মণ্ডল মারা যাওয়ার পর থেকে সোনাভান বেগম তাঁর তিন ছেলে আলিম, আলেম ও ছালেমকে তিল তিল করে বড় করেন এবং বিয়ে দেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পত্তি ছেলেদের মাঝে ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদা বাড়িও করে দেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সোনাভান বেগম এখন নিজের গড়া সংসারে একপ্রকার পরগাছা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছেলেরা তাঁদের সম্পত্তি স্ত্রীদের নামে লিখে দেওয়ায় মায়ের কথা আর শোনেন না; বরং স্ত্রীদের কথামতো চলেন। নানা অজুহাতে গর্ভধারিণী মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় সময়ই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় বাঁশের জাংলায় সোনাভানের নিজ হাতে লাগানো সযত্নের সবজি গাছগুলো কেটে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয় তার ছেলে ও পুত্রবধূ সম্পা ও রেশমা। নিরুপায় হয়ে এবং এর প্রতিকার চেয়ে বৃদ্ধা সোনাভান বেগম বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তামবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”












Design & Developed by BD IT HOST