প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২৬ , ৯:৪৮:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেক্স:
শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নেমে এসেছে গত সাত মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি। এর ফলে ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম এক প্রান্তিকে (তিন মাসে) স্বর্ণের বাজারে সবচেয়ে বড় মূল্যপতন দেখা গেছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ স্পট গোল্ড বা কাঁচা স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত নভেম্বর ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের পর এটি স্বর্ণের প্রথম ত্রৈমাসিক লোকসান এবং গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক মূল্যপতন।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেনের মতে, স্বর্ণের বর্তমান মূল্যপতন বাজারের দুর্বল মনোভাবেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, এখন সামান্য দাম বাড়লেই বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা গত কয়েক বছরের প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তার মতে, বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হয়েছে— এমন ধারণা পেতে হলে প্রতি আউন্স মূল্যকে প্রথমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার কমার যে প্রত্যাশা ছিল, তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে ৬৪ শতাংশ। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনায় এখন লভ্যাংশহীন স্বর্ণের পরিবর্তে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও টানা চাপ অব্যাহত রয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬৪ ডলারে, প্ল্যাটিনাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৭৭ দশমিক ১৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.০৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৬৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। এর জেরে বিশ্ব তেলের বাজার ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক ধসের মুখোমুখি হয়েছে।












Design & Developed by BD IT HOST