প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ৯:১৩:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, তালাক দিয়েও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে, পরবর্তীতে পরিবারের চাপে ডিভোর্স দিয়েও ফের সেই নারীর সঙ্গেই অবৈধভাবে সংসার করার অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রথম স্ত্রীর গচ্ছিত প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে তার খোরপোষ ও চিকিৎসা খরচ বন্ধ করে দেওয়ার মর্মান্তিক তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ মানিক মিয়া। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা (পিতা: মোঃ জাহের মিয়া, মাতা: আম্বিয়া)। মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন।
**গোপন বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ**
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর সংসারে মানিক মিয়ার ছেলে-মেয়ে রয়েছে, যাদের বিয়ে হয়ে নাতি-নাতনিও হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্ন আর্থিক সমস্যার কথা বলে ধাপে ধাপে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এরপর স্ত্রীর কোনো অনুমতি না নিয়েই ময়মনসিংহের ভরাডোবা গ্রামের চম্পা নামের এক নারীকে গোপনে বিয়ে করে সৌদি আরবে সংসার শুরু করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা প্রতিবাদ জানালে মানিক মিয়া চম্পাকে কাগজে-কলমে ডিভোর্স দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেন।
**তালাকের পর অনৈতিক লিভ-ইন ও অর্থ আত্মসাৎ**
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ডিভোর্সের নাটক সাজালেও বিগত প্রায় নয় মাস ধরে মানিক মিয়া প্রথম স্ত্রীর কোনো খোঁজখবর বা খোরপোষ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, চম্পাকে গোপনে পুনরায় সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা ছাড়া বা নতুন কোনো আক্দ (বিয়ে) না করেই অনৈতিকভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি চম্পাকে আবার দেশে পাঠানো হলেও নিয়মিত তার পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করছেন মানিক মিয়া।
এদিকে, প্রথম স্ত্রী নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে এবং খোরপোষের দাবি জানালে মানিক মিয়া তার সব ফোন নম্বর ব্লক করে দেন।
**মানবেতর জীবন ও আকুল আবেদন**
আজীবন কষ্টার্জিত প্রায় ২০ লাখ টাকা হারিয়ে প্রবাসে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রী। অতিরিক্ত মানসিক চাপে তিনি বর্তমানে হৃদরোগে (হার্ট) আক্রান্ত, কিন্তু অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।
একজন মুসলিম হিসেবে তালাকপ্রাপ্ত নারীর সঙ্গে পুনরায় আক্দ না করে মানিক মিয়া কীভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রবাসী ও স্থানীয় জনমনে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে চরম অসহায় পড়ে ভুক্তভোগী নারী আকুল আবেদন জানিয়ে বলেছেন,এমন মানুষরূপী জালিমের প্রতারণার শিকার হয়ে আর কোনো নারীর সংসার যেন ধ্বংস না হয়।”* তিনি এ ঘটনার সঠিক বিচার ও নিজের অধিকার আদায়ে সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।












Design & Developed by BD IT HOST