আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে আটক প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসী

  প্রতিনিধি ৮ আগস্ট ২০২৬ , ৭:০৯:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক ডেক্স:
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসের যেকোনো এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেফতারের রেকর্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান জোরদার করার ফলেই এই রেকর্ড সংখ্যক গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।
আইসিই-এর প্রকাশ করা তথ্য এবং মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত মাসে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে গত জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের রেকর্ড হয়েছিল, যা ভেঙে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নতুন রেকর্ড গড়ল সংস্থাটি।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও বহিষ্কারের অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়ার পরই এই ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই অভিযান তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে শুধু জর্জিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, জুনের হিসাব পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতে এই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধী ও অবৈধ প্রবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার এই সাধারণ পদক্ষেপকে ৮০ শতাংশ মার্কিনি সমর্থন করেন এবং এর মাধ্যমে আমেরিকাকে নিরাপদ করা হচ্ছে।
তবে এই কঠোর অভিযানের তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, সাম্প্রতিক অভিযানে অনেক এমন মানুষকেও আটক করা হয়েছে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যাদের বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা প্যারোল ডকুমেন্ট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থী ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রধান মাইক হাউওয়েলের মতো কট্টর সমর্থকরা মনে করছেন যে এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল এবং কৌশল হিসেবে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক অভিযান বাড়ানো দরকার।
এই রেকর্ড সংখ্যক গ্রেফতার মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কঠোর অবস্থানকে ফুটিয়ে তুলেছে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য ডন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST