সারাদেশ

ভয়াবহ আগুনে তিন দোকান পুড়ে ছাই

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৫৮:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ক্রোকারিজের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোয়ালন্দ পান বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের মোট ৫টি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
তবে বাজারে ভেতরে কিংবা আশপাশে কোথাও পানির উৎস না থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- মো. খোকন মন্ডল, মো. হারুন অর রশিদ ও মো. লুৎফর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, খোকন মন্ডলের ক্রোকারিজের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের আরও দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে প্রথমে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। কিন্তু আশপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় তাদেরকে চরম বেগ পোহাতে হয়।
পরে রাজবাড়ী থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও তিনটি ইউনিট এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে রাত ১২টার দিকে তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
আগুনের ভয়াবহতায় বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান থেকে দ্রুত মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়। এ সময় কিছু মালামাল হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী খোকন মন্ডল জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি তার দোকানে আগুন লেগেছে বলে জানতে পারেন। দ্রুত তিনি বাজারে এসে চোখের সামনে তার দোকান পুড়ে যাওয়া দেখেন। তিনি দাবি করেন, তার দোকানে থাকা নগদ ৫০ লক্ষাধিক টাকা, ৪৫-৫০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল এবং ১৩-১৪ ভরি স্বর্ণসহ অন্তত দেড় কোটি টাকার সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।
আরেক ব্যবসায়ী লুৎফর মন্ডল বলেন, তার দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্রোকারিজ মালামাল, নগদ দুই লাখ টাকা ও দোকানে থাকা দেড় শতাধিক জমির দলিল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি ব্যাবসার পাশাপাশি জমির মহুরির কাজ করতেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পোঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুরোপুরি নেভাতে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। এ কাজে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ীর ৫টি ইউনিট কাজ করে। তবে বাজারের মধ্যে ও আশপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় তাদের বেশ বেগ পোহাতে হয়। প্রাথমিকভাবে জেনেছি, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার চেষ্টা করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST