প্রতিনিধি ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৪৩:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৮টি ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তীব্র গরমে শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বিশেষ করে সেচ কাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চোরচক্র রাতের আঁধারে পোল থেকে ট্রান্সমিটার নামিয়ে ভেতরের মূল্যবান তামার কয়েল ও তেল নিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি গ্রামের থেকে এসব ট্রান্সমিটার চুরি হয়। চোরচক্র এমন দক্ষতায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্রান্সমিটার নামাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গ্রাহকদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ:
ট্রান্সমিটার চুরির পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সমিটার চুরি হলে নতুন করে সংযোগ পেতে গ্রাহকদের ওপর বড় অংকের আর্থিক বোঝা চাপানো হয়।
আমরা এতো বড় অংকের টাকা কিভাবে দিব দেওয়ার মতো অর্থ নেই । আমরা নিরাপত্তা দিতে পারছি না, আবার চুরির দণ্ডও আমাদেরই দিতে হচ্ছে—এটি অন্যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রান্সমিটার চুরি রোধে তারা সজাগ রয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুরির সাথে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। শুধু সাধারণ চোর নয়, বরং এর সাথে অসাধু কোনো কারিগরি গোষ্ঠী বা ভাঙারি ব্যবসায়ীদের বড় সিন্ডিকেট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, দ্রুত এই চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে চুরির ঘটনা আরও বাড়বে।


















Design & Developed by BD IT HOST