প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৫ , ১০:০৮:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
কষ্ট করে অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে খাওয়ায়ে বড় করেছি। জমিজমা বেইচ্যা, দেনা হয়ে ছেলেরে বিদেশে পাঠাইছি। এহন ও (ছেলে) আমারে চিনেই না। বউয়ের কথা শুইন্যা (শুনে) ওর শ্বশুরবাড়ির মানুষ আইন্যা (এনে) আমারে মাইরছে (মারধর)।
প্রবাসী ছেলের নির্যাতনে হাসপাতালের বিছানায় বসে নিজ ছেলের বিরুদ্ধে কেঁদে কেঁদে এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন ষাটোর্ধ বাবা নূর ইসলাম বিশ্বাস।
নূর ইসলামের অভিযোগ, ছোট ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সজিব বিশ্বাসের (২৮) বিরুদ্ধে। বাবা নুর ইসলাম ফরিদপুর জেলা সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চরজ্ঞানদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুর ইসলাম এখনো অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। মাঝে মধ্যে তার স্ত্রীও দিনমজুরের কাজ করেন স্বামীর সঙ্গে।
জানা গেছে, নুর ইসলামের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকেন। অসুস্থ স্ত্রী রিজিয়া বেগমকে নিয়ে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে চলে নূর ইসলামের সংসার। বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছেন তিনি।
তিনি জানান, বসতবাড়ির জমি লিখে না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে ছোট ছেলে ও ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে গুরুতর আহত হন তিনি। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নূর ইসলাম বলেন, জমিজমা বিক্রি করে ২০১৬ সালে ছোট ছেলেকে সিঙ্গাপুর পাঠাই। এর মধ্যে বাড়িতে এসে পরিবারের নিষেধ অমান্য করে একই গ্রামের এক তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে সে। পরে প্রবাসে গিয়ে আমাদের (বাবা-মা) সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ছয় বছর পর গত ২৯ মে দেশে এসেই শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে বাড়িতে এসে বসতভিটার জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
নূর ইসলাম বলেন, আমার জমিই এইটুকু। আমি যদি এই জমি লিখে দেই, তাইলে আমারে কালকেই ঘাড় ধরে বাইর কইরা দিবে। আমি কোথায় যাব, আমারে তো পথে ফেলায় দিবে। জমি লেখা ছাড়াই তো বাড়ি থাকতে পারি না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। পৃথিবীতে এ রকম যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে নূর ইসলাম বলেন, ছেলের বউ এসে আমাকে গালিগালাজ করে। জমি লিখে না দিলে আমারে গলাটিপে মাইরা ফেলবে। তহন (তখন) ফোন দিয়ে লোকজন আনে। তারা আমার বুকের পাশে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দেয়, আমার ঘাড়ে কিলায় (কিল-ঘুসি)। আমার ছেলেই সবকিছু করাইছে। আমি হাসপাতালে আসার পরে ট্রাক এনে আমার গরুও নিতে গেছিল। তহন মাইনসে (প্রতিবেশীরা) ঠেকায় রাখে (বাধা দেন)।
এ বিষয়ে তিনি ওই দিন বিকালে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন নূর ইসলাম। এজাহারে ছেলে সজিব বিশ্বাস, স্ত্রী তানজিলা, শ্যালক জিহাদ শেখ, শ্বশুর হালিম শেখ, স্থানীয় মানিক মণ্ডলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সজিব বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যতটুকু জেনেছি, এটা পারিবারিক বিরোধ।












Design & Developed by BD IT HOST