সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাল্যবন্ধুকে গলা কেটে হত্যা

  প্রতিনিধি ১৭ অক্টোবর ২০২৫ , ৬:০৫:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে বাল্যবন্ধু উমর হাসানকে গলা কেটে খুন করেছেন খাইরুল আমিন নামে এক যুবক। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে এলে ঘাতকের ছুরির কোপে উমরের মা রাহেলা বেগমও আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
নিহতের পিতা জাকির হোসেন বলেন, আমার ছেলে উমর (২৩) এবং খাইরুল আমিন শৈশব থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সম্প্রতি ব্যক্তিগত কিছু বিরোধে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খাইরুল আমিন কৌশলে উমরের ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই সে ধারালো ছুরি দিয়ে উমরের ঘাড়ে ও হাতে কোপ দেয় এবং গলা কেটে হত্যা করে।

তিনি বলেন, গত ১২ নভেম্বর কাতারে চলে যাওয়ার কথা ছিল উমরের, এটা সহ্য করতে না পেরে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিত খাইরুল। ছেলে হত্যার বিচার চাই।

এদিকে হত্যাকাণ্ড শেষে খাইরুল পালানোর চেষ্টা করলে উমরের মা রাহেলা বেগম ছেলের ঘরে শব্দ শুনে সেখানে যান। ছেলের এমন অবস্থা দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে ঘাতক তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত উমরের নিথর দেহ ও আহত রাহেলা বেগমকে দেখতে পান। আহত মাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মা রাহেলা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যেভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে তাকেও এভাবে হত্যা করে মারতে হবে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।

৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

ওসি শাহিনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- পূর্বশত্রুতার জের ধরে খাইরুল আমিন তার বাল্যবন্ধু উমর হাসানকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক খাইরুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ঘাতকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST