প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বর্ষার আগমনী সুরে প্রকৃতি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার পর সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ফুটেছে বর্ষার ঐতিহ্যবাহী ফুল কদম। সড়কের পাশ, খাল-বিলের তীর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বর আর গ্রামীণ জনপদের আনাচে-কানাচে কদম গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা সাদা-হলুদ পুষ্পস্তবক পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির ছোঁয়ায় সতেজ হয়ে ওঠা কদম ফুলগুলো যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আলাদা সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। ভোরের শিশির আর বৃষ্টির স্নিগ্ধ আবহে ফুলগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই কদমের রূপ উপভোগ করতে গাছের নিচে ভিড় করছেন, কেউবা ক্যামেরায় বন্দি করছেন প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা জানান, কদম ছাড়া বর্ষার রূপ যেন পূর্ণতা পায় না। বছরের অন্য সময়ে সাধারণ মনে হলেও বর্ষাকালে কদম ফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে কদম ফুল বর্ষার বার্তা নিয়ে আসে।
বাংলা সাহিত্য, গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে কদমের সম্পর্ক সুগভীর। আবহমান বাংলার ছড়া-কবিতায় কদমের উল্লেখ রয়েছে। যেমন— ‘চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে, কদম তলায় কে? হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনামনি বে।’ এটি কেবল একটি ফুল নয়, বরং বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কদমের সংস্কৃত নাম ‘কদম্ব’। এর অনেকগুলো কাব্যিক নাম রয়েছে, যেমন—বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকোশিনী ও ললনাপ্রিয়। মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের গাছ হলেও বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কদম গাছ দেখা যায়।
পরিবেশবাদীরা মনে করেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কদমসহ দেশীয় বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও প্রকৃতির এই নান্দনিক রূপ দেখার সুযোগ পাবে।
বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে কাজিপুরের প্রকৃতিতে ফুটে থাকা কদম ফুল স্থানীয় মানুষের মনে যেমন প্রশান্তি এনে দিচ্ছে, তেমনি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।


















Design & Developed by BD IT HOST