জাতীয়

বঙ্গোপসাগরে এবার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, আঘাত হানতে পারে যেসব অঞ্চলে

  প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৯:২৫:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে এবার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, আঘাত হানতে পারে যেসব অঞ্চলে

অনলাইন ডেক্স:
মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ পেরিয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিডব্লিউওটির পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক পূর্বাভাস। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও আঘাত হানার সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা আপাতত কম। তবে বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস বলছে, এর পরোক্ষ প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তৃতি পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যেতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সম্ভাব্য দুর্যোগের সময়ে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে বিডব্লিউওটি। বিশেষ করে পাকা ধান বৃষ্টিতে ভিজে গেলে পচন ধরা, ধানে অঙ্কুরোদ্গম হওয়া এবং গাছ মাটিতে হেলে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ কারণে যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শীতকালীন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা করা কৃষকদের বৃষ্টি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। যেসব জমিতে ইতোমধ্যে রবি ফসল বা সবজি রয়েছে, সেখানে পানি জমে থাকা ঠেকাতে নালা পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কাঁচা ফসল, বীজ ও সার বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ফসল দ্রুত পরিবহনের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে বিডব্লিউওটি।
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের ওপর নজর রাখা জরুরি। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে সতর্কবার্তাও হালনাগাদ হতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST