সারাদেশ

নারীদের উদ্যোগে খেলাধুলার উৎসব, ছড়াল সম্প্রীতির বার্তা

  প্রতিনিধি ২১ আগস্ট ২০২৬ , ৭:৪৫:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নারীদের উদ্যোগে খেলাধুলার উৎসব, ছড়াল সম্প্রীতির বার্তা

(আবু মুসা) , টেকনাফ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় নারীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। খেলাধুলার মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
“We Organized This Ourselves: A Day of Sport and Sisterhood” শীর্ষক এ আয়োজনটি সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইডের সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া ইয়ুথ পিচ ক্যাম্পের উদ্যোগে চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার দুপুর ২টায় প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ পর্বে মেয়েদের হাডুডু, মার্বেল খেলা, ফুটবল, বাস্কেটবল, মিউজিক্যাল চেয়ার, দড়ি টানাটানি ও সুই-সুতা খেলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে হ্নীলা ইউনিয়নের ইয়ুথ পিচবিল্ডার, স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪-এর ইয়ুথ পিচবিল্ডার দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ধর্ম, বর্ণ, জাতি-উপজাতি ও সম্প্রদায়ের ভেদাভেদ ভুলে সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন।
প্রথম অধিবেশনের খেলাধুলা পরিচালনা করেন পিচ চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ ইরফাত ও তানজিনা মোহাম্মদ জয়া। দ্বিতীয় অধিবেশনের খেলাগুলো পরিচালনা করেন পিচ চ্যাম্পিয়ন কাঁকন দাশ, সুমাইয়া আক্তার ও হালিমা আক্তার। পুরো আয়োজনের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন ইয়ুথ সদস্য মোহাম্মদ সোহেল রানা ও মোহাম্মদ রবিউল আলম।
আয়োজকরা জানান, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার কার্যকর মাধ্যম। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্বের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আয়োজনে হ্নীলা ইউনিয়নের মগ, হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
দ্বিতীয় অধিবেশনে গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ইয়ুথ পিচবিল্ডাররা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে আমন্ত্রিত অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST