প্রতিনিধি ২ মে ২০২৬ , ৬:০৯:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী পৌরসভার চৌয়ালা এলাকায় প্রেমঘটিত বিরোধ মীমাংসার জেরে আপন বড়ভাইকে হত্যা করেছেন হাসান মিয়া নামে এক যুবক।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টায় সাটিরপাড়া এলাকার আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে
নিহত আল-আমিন (৩০) একজন মিশুক চালক। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলী বাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত ঘাতক ছোট ভাই হাসান মিয়া (২৬), তিনিও পেশায় মিশুক চালক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলামের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বোন তাসলিমা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা হাবির ছেলে নাইম। এ নিয়ে নাইমের সঙ্গে আল-আমিনদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। নাইমের হুমকির মুখে একপর্যায়ে পরিবারটি নরসিংদী শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়।
সম্প্রতি আল-আমিন ওই বিরোধের মীমাংসা করে তিনদিন আগে চৌয়ালায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। তবে ছোট ভাই হাসান এই মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি। কেন বিরোধ মেটানো হলো এই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার রাতে তিনি বড় ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব।
শনিবার সকালে আল-আমিন বাজার করার জন্য বাসা থেকে বের হলে সাটিরপাড়া আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ওতপেতে থাকেন হাসান। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে হাসান কেঁচি দিয়ে আল-আমিনের পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আল-আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেকদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনদিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর আসতে পারেনি এই কারণেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার আগের রাতে ফোন করে হাসান হুমকি দেন, তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না, তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরের সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব। পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করতেন। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করেন। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। নরসিংদীতে না এলে কাজকর্ম করা যায় না, তাই ফিরে আসতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল-আমিন নামে একজনকে আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতটি গভীর হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী মডেল থানার ওসি এআরএম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।












Design & Developed by BD IT HOST