প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০২৬ , ৮:২০:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
গৌরনদীতে সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে মারধর ও নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদীতে সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. মাসুদ সরদার নামের এক সাংবাদিককে মারধর, গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং মোটরসাইকেলে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ঘটনার আলামত নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মাসুদ সরদার (৩১) বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী এলাকার বাসিন্দা এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগে মো. রিয়াদ সরদার, শিহাব সরদার, কথিত সাংবাদিক সৈকত নাসিমসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রিয়াদ সরদারকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সাংবাদিক মাসুদ সরদারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ওই সংবাদটি সরিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে সৈকত নাসিম পরিচয়ে এক ব্যক্তি জরুরি কথা আছে জানিয়ে মাসুদ সরদারকে টরকী বন্দর এলাকার একটি বেসরকারি এনজিও কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ধাপে ধাপে রিয়াদ সরদারসহ অন্যরা উপস্থিত হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় রিয়াদ সরদার, সৈকত নাসিম ও শিহাব সরদারসহ অন্যরা তাকে টেনে-হেঁচড়ে মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকি দেন।
হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৩ প্রো মোবাইল ফোন, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযোগে মোবাইল ফোনটির মূল্য ২৫ হাজার এবং ক্যামেরাটির মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাতে সংগ্রহ করা না যায়, সে জন্য হামলাকারীরা ক্যামেরার মেমোরি কার্ডও খুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিয়াদ সরদার, শিহাব সরদার ও সৈকত নাসিমের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















Design & Developed by BD IT HOST