সারাদেশ

কটিয়াদীতে জমি বিরোধে যেকোনো সময় হতে পারে বড় ধরনের সংঘাত; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

  প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০২৬ , ৬:২৩:০২ প্রিন্ট সংস্করণ

কটিয়াদীতে জমি বিরোধে যেকোনো সময় হতে পারে বড় ধরনের সংঘাত; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের নিমুক পুরুড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিরোধের জেরে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে কটিয়াদী মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দাবি করেছে উভয় পক্ষ।
বিরোধে এক পক্ষে রয়েছেন একই বাড়ীর মো. নয়ন মিয়া (২৬) ও তার পরিবার। অপর পক্ষে রয়েছেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মিরাজ উদ্দীন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নয়ন মিয়া পক্ষের দাবি, গত ২১ আগস্ট দুপুরের দিকে স্বপন নামে এক যুবককে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে মিরাজ উদ্দীনের দাবি, ঢাকায় অনার্স পড়ুয়া তার ছেলে বাড়িতে আসার পর তাকে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তাদের পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে নয়ন মিয়া পক্ষের দাবি, পারিবারিকভাবে মিরাজ উদ্দীনের পক্ষের কাছে তাদের জমি পাওনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বলেও জানান তারা।
তবে এ দাবির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য মিরাজ উদ্দীন পক্ষের। তাদের দাবি, জমি নিয়ে কোনো দাবি থাকলে আইনগতভাবে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব। মিরাজ উদ্দীন অভিযোগ করেন, বিরোধের জেরে তাদের জমি দখল এবং গাছ কাটা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
মিরাজ উদ্দীন পক্ষের আরও দাবি, জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তাদের দাবি, তারা নিয়মিত বাড়িতে থাকেন না।
অন্যদিকে নয়ন মিয়া পক্ষের অভিযোগ, তারা নিরীহ বলে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ কারণে তারা বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তারা।
বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দুই পক্ষই জানিয়েছে। তবে মিরাজ উদ্দীন পক্ষের দাবি, সালিশে জমি মাপজোখের জন্য আসা এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনা ঘটলে বৈঠকটি আর এগোয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নয়ন মিয়া পক্ষ নিজেদের নিরীহ দাবি করে উল্টো দুষছেন মিরাজ উদ্দীন পক্ষকে। তারা জানান মিরাজ উদ্দীনরা অনেক প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। তবে মিরাজ উদ্দীন জানান, তারা এলাকায় থাকেন না, তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় থাকেন এবং অপর পক্ষ অনেক উচ্ছৃঙ্খল।
এ নিয়ে দু’পক্ষই একে অপরকে দুষছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিরোধে জড়িত দুই পক্ষই একই বাড়ির রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় উভয় পক্ষই প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগতভাবে বিরোধের সমাধান চেয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘর্ষ, মারধর বা হয়রানির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
এলাকাবাসীরও দাবি, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ সমাধানের পাশাপাশি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে উভয় পক্ষের করা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST