সারাদেশ

ও আমার কলিজার পুতুলি, আফনানের বই হাতে নিয়ে বললেন তার মা

  প্রতিনিধি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:৪৫:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফনান দীর্ঘ ২৭ দিন পর মারা গেছে।
ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হুজাইফার সঙ্গে থাকা চাচা শাখাওয়াত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা চললেও তার শরীর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানে ৯ বছরের শিশুটি।
চাচা শাখাওয়াত জানান, আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মৃত্যু হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পেলে হয়তো হুজাইফাকে বাঁচানো যেত। তিনি সবার কাছে হুজাইফার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
হুজাইফার মৃত্যুর খবরে তার বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হুজাইফার মা সুমাইয়া আক্তার বলেন, ও আমার কলিজার পুতুলি। একবার মা বলে ডাকত। আজ কিছুই নেই।’ মেয়ের স্কুলের বই হাতে নিয়ে বারবার বিলাপ করতে দেখা যায় তাকে।
বাবা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন মেয়ে জিজ্ঞেস করত—বাবা কোথায়? চকলেট আর কোক আনার কথা মনে করিয়ে দিত। এখন সেই ডাক আর শুনব না।
ফুফু নাছিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। হুজাইফা কোনো যুদ্ধ করেনি। তবুও গুলির শিকার হলো।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের উচিত ছিল তার চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া।
গত ১৩ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা আফনান। সে লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST