সারাদেশ

অফিস না করেই বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:১০:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেক্স:
পোস্টমাস্টারের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে উপজেলার বারবাকিয়া পোস্ট অফিস। এ অফিসের পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ হোসেন। নিয়মিত অফিস না করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পোস্ট অফিসের আশপাশে যেসব ব্যবসায়ী আছেন তারা কেউই তাকে চেনেন না এবং কোনোদিন অফিসে আসতেও দেখেননি। তিনি অফিস না করে নিজের ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিন দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বাজারের মাঝখানে পোস্ট অফিস। অফিসটি প্রায় সময়ই তালাবদ্ধ থাকে বলে স্থানীয়রা জানান। গত দুই সপ্তাহ ধরে অফিসে গিয়ে পোস্টমাস্টারের দেখা মেলেনি।
গত ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে অফিসটি খোলা পাওয়া যায়। তখন ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, অফিসে ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। দেখে মনে হলো এ যেন এক ভুতুরে ঘর। অফিসের ভেতরে এক বৃদ্ধ লোক চেয়ারে কাজ করছেন। তার নাম জাকের হোসেন। শুরুতে তার পদবি জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পোস্টমাস্টার পরিচয় দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর নিজের পদবি পোস্টমাস্টার নয় সেটা স্বীকার করেন। মূলত তিনি ওই অফিসের ইডিডিএ পদে কর্মরত আছেন।
পোস্টমাস্টার কোথায়? জানতে চাইলে জাকের হোসেন বলেন, তিনি জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন। এজন্য তাকে ডাকের কাজ সেরে নেওয়ার জন্য বলেছেন।
অফিসের ল্যাপটপ কোথায়? জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটা পোস্টমাস্টারের কাছে জিজ্ঞেস করেন, আমি জানি না।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পোস্টমাস্টার হিসেবে আমরা জাকের হোসেনকে চিনি। তবে পোস্টমাস্টার যে মোহাম্মদ হোসেন সেটা এই প্রথম শুনেছি। বিষয়টি জানাজানির পর এখন অফিসে মাঝে মধ্যে আসেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি সরকারি নিয়ম মেনে চাকরি করি। অফিস না করে বেতন নেওয়ার বিষয়টি তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
উপজেলা পোস্টমাস্টার কামাল হোসেন বলেন, নিয়মিত অফিস না করার বিষয়টি আমরা জানতাম না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খোঁজ নেওয়া হবে এবং সত্যতা পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আবগত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST