প্রতিনিধি ৮ মে ২০২৬ , ৫:১০:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
শফিকুল ইসলাম,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনতিবিলম্বে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিশাল প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন:
দ্রুত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশ।
সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ দ্রুত জনসমক্ষে আনা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা।

ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন কর্মচারীরা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. আব্দুল মালেক বলেন,নিত্যপণ্যের দাম, আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ কর্মচারীরা আজ দিশেহারা। রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা সচল রাখলেও তারা নিজেরা আজ ঋণগ্রস্ত। বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম প্রধান বক্তার বক্তব্যে বলেন, একদিকে মুদ্রাস্ফীতি চরমে, অন্যদিকে বেতন স্থবির। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এখন বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সভাপতির বক্তব্যে পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক মু. শাহাবুদ্দিন মুন্সী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে যদি পে-স্কেলের প্রতিফলন না ঘটে, তবে সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে বসে থাকবে না। দাবি আদায়ে রাজপথে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন তিনি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির জেলা সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:
মো. শাহিন খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক।
সৈয়দ মিজানুর রহমান, সভাপতি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, পটুয়াখালী।
মো. মুনীরুজ্জামান, সদস্য সচিব, জেলা শাখা।
মো. শাহজাহান শিকদার, সভাপতি, বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি।
মো. শহীদ বিশ্বাস, সভাপতি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কল্যাণ সমিতি।
মো. হারুন-অর-রশিদ, সভাপতি, বাংলাদেশ কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তাদের দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।


















Design & Developed by BD IT HOST