প্রতিনিধি ১২ জুন ২০২৬ , ১১:৪৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেক্স:
দেশে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা না গেলে ঘোষিত নতুন বাজেটের সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি এখনও লুটেরা ও অর্থ পাচারকারী দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে না পারলে তুলনামূলক ভালো বাজেট হলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের কোনো উপকার হবে না।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান মে দিবস ও বাজেট ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমজীবী ফেডারেশন (বিএসএফ)।
বাজেটের আকার ও ঘাটতি প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সরকার সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের দিকে নজর দেওয়ার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। এবারের বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হলেও সাহসী উদ্যোগ। তবে ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাজেটে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতেও ফ্ল্যাট কেনাসহ বিভিন্ন খাতে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। এ ধরনের উদ্যোগ চোর, দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীদের আরও উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যদি বিএনপি একটি দেশপ্রেমিক ও জনমুখী সরকার হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, তাহলে কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, বিগত ইউনুস সরকারের দেড় বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। গত সাড়ে তিন মাসেও অনেকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি। কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে দেশের মানুষ ইউরোপ বা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন। তিনি এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতেও সামান্য চাল-ডালের জন্য মানুষকে টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। বিদেশি বন্ধুদের সামনে এটি দেশের জন্য লজ্জাজনক ও মর্যাদাহানিকর চিত্র।
সাইফুল হক আরও বলেন, এবারের বাজেটে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বাজেটের অজুহাতে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যবসায়ী যদি অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তার প্রতিবাদ করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা ও প্রতিরোধ ছাড়া এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ তানভীর আহমেদ রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন আহমদ জিন্টু, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (আধার) প্রমুখ।


















Design & Developed by BD IT HOST