প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩৫:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফা দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের কারণে গত শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। এতে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অপরদিকে আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
আজ বুধবার স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ না করায় ওয়্যার হাউজ ফাঁকা পড়ে আছে। পাথর ভাঙার মেশিনগুলোও বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকেরা অলস সময় পার করছেন।
স্থলবন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করে। গত ৪ দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, বর্তমানে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর দিচ্ছে, তা নিম্নমানের ও আকারে ছোট। নিম্নমানের এসব পাথর ভাঙার পর কাঙ্ক্ষিত আকার থাকে না। পাথরের আকার ঠিক না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চায় না। এ ছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছে। আগে প্রতি টন পাথরের (রিভার স্টোন) দাম ছিল ১১ ডলার। বর্তমানে তা ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ পড়ত ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এখন খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা।
স্থলবন্দরের কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাথর না আসায় খালাসি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে আয় রোজগার কমে গেছে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোঃ মাইদুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। আসামের নতুন সরকার পাথরের রয়্যালটি অনুমোদন না দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছে। এই পাথর দিয়ে কাজ করা হলে মান খারাপ হয়। তাই ঠিকাদারেরা এসব পাথর কিনতে চাচ্ছে না। এ ছাড়া পাথরের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে পাথরের দাম ছিল ১২ ডলারের মতো। এখন দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ ডলার।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন,ভারত থেকে চাহিদামত পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।
সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিনুল হক বলেন, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।


















Design & Developed by BD IT HOST