জাতীয়

উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

  প্রতিনিধি ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৭:৩৬:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

অনলাইন ডেক্স:
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রণীত কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অর্ধশতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর অন্যতম শিকার নারী ও শিশুরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এ কারণে জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ। পাশাপাশি কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিলের অর্থপ্রাপ্তি সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার ফলাফল বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরিতে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, আসন্ন কপ ৩১-এ বাংলাদেশের ‘সোনালি সুতো’ পাটকে পরিবেশবান্ধব, জৈব অবক্ষয়যোগ্য ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে। পাটের তৈরি শৈল্পিক পণ্যের প্রচার ও বাণিজ্যিক প্রসারে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও খবর

Sponsered content

Design & Developed by BD IT HOST