প্রতিনিধি ২ জুন ২০২৬ , ৮:৪০:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেক্স:
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) মঙ্গলবার (২ জুন) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা যখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বৈঠকে মার্কিন পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার মাইক নিধাম এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সিলর ড্যান হলার। অন্যদিকে, ইসরাইল ও লেবাননের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দেশ দুটির নিজ নিজ রাষ্ট্রদূত যথাক্রমে ইয়েকিল লেইটার এবং নাদা হামাদেহ। বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ফটো সেশনের সুযোগ দেওয়া হলেও কর্মকর্তারা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দৃশ্যত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির কথা থাকলেও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে বিমান ও রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে গত শুক্রবারেই (২৯ মে) পেন্টাগনে উভয় দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ওয়ার্কিং-লেভেল বা কার্যনির্বাহী পর্যায়ের নিরাপত্তা আলোচনা শুরু হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এবার ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক বৈঠক শুরু হলো।
এদিকে, লেবাননে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় সামরিক ভূমিকার কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের শান্তি আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ইরানি গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা এখনো চলছে, যদিও লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করার হুমকি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপের খবর প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না এবং তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে সামরিক অভিযানের পরিধি কমিয়ে আনার জন্য চাপ দেন।
কিন্তু এই ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তারা ইসরাইলে রকেট হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত লেবাননের দূতাবাস থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে বৈরুত কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর কাছ থেকে মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সবুজ সংকেত পেয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।






Design & Developed by BD IT HOST