প্রতিনিধি ৮ জুন ২০২৬ , ১২:৫৫:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
অনলাইন ডেক্স:
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী ও মজবুত। বর্তমানে ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট নেই। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংক সদা তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ইসলামী ব্যাংকের পাশে রয়েছে।
রোববার এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি এসব কথা বলেনে। সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ার কারণে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার প্রবণতাও বেড়েছে। এ কারণে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে তিনি এই ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের জমা টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। গ্রাহকরা যে কোনো সময় তার চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন। এতে কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি বিভ্রান্ত না হতেও তিনি গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানান। অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে গ্রাহকদের টাকা তুলতে উৎসাহিত করছেন। তবে এসব গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংক নানামুখী সংকটে পড়েছে। সেইসব সংকট ব্যাংক সফলভাবে মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সদা সতর্ক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধাক্কা সামলে ওঠে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবেই। আগে যে প্রেক্ষাপটে ব্যাংক সংকটে পড়েছিল, এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন যে কোনো ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নীতি ও কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ। সব ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জবাবদিহি রয়েছে। পর্ষদ থেকে নিচের স্তরের কর্র্মীদের মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্ষদ প্রতিটি বিনিয়োগ অত্যন্ত কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করে অনুমোদন করছেন। এখন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে ব্যাংকের সঙ্গে রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় গ্রাহকদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলমান আন্দোলনের ফলে গত ৫ কর্মদিবসে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার পরিমাণও বেড়ে গেছে। আগে গ্রাহকদের জমার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ কম ছিল। এখন জমার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি। এ কারণে ব্যাংকটি আগের সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পর এখন আবার নতুন করে সংকটে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ কর্মদিবসে ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রোববারও গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেন। তারা নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি তারা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া যারা বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিচ্ছেন তারা সেটি কোথায় নিয়ে রাখছেন সেটিও মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে- ব্যাংক থেকে টাকা তুলে গ্রাহকদের হাতে রাখার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে।












Design & Developed by BD IT HOST